Breaking News

দোষটা কার? ব্রাজিল,আর্জেন্টিনা নাকি অন্য কারো?

ফুটবলে যে জিনিসটা ঘটে গেলো এটা ফুটবলের জন্যই লজ্জাজনক একটি ঘটনা।


ফুটবলে যেন এমন দ্বিতীয়টা আর না ঘটে।ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ক্লাসিকো ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট দৈরথের একটি।এই ম্যাচটা নিয়ে পুরো বিশ্বেই উত্তেজনা বিরাজ করে।কালকের ব্যাপারটাও সেইম ছিলো।সবাই টিভি সেটের সামনেও বসে ছিলো,কিন্তু ম্যাচ শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মাথায় যে ঘটনা ঘটে গেলো সেটার জন্য প্রস্তুত ছিলোনা কেউই।
যাই হোক এবার আসি মূল কথায়।গতকালের ঘটনার পর মোটামুটি সবারই জানার ইচ্ছা এই ঘটনা পরবর্তী সিনারিও কি হতে পারে?
ফুটবলের ওয়ান অফ দ্যা টপ ম্যাগাজিন “লা গাজ্জেটা দেল্লো স্পোর্টস ” এটা নিয়েই একটা আর্টিকেল প্রকাশ করলো আজ।ওই আর্টিকেল অনুযায়ী যতটু বুঝলাম এই ম্যাচ নিয়ে এখন দুইটা সিনারিও হইতে পারে।
সিনারিও কি হবে সেটাতে যাওয়ার আগে এই ঘটনার কাহিনীটা একটু তুলে ধরি।
ঘটনার কারন আর্জেন্টিনা স্কোয়াডে প্রিমিয়ার লিগের ৪ ফুটবলার এমি মার্টিনেজ, বুয়েন্দিয়া,লো সেলসো,রোমেরো।যারা ইংল্যান্ড থেকে ইউকে ভায়া হয়ে আর্জেন্টিনা ক্যাম্পে জয়েন করে।এবং ওরা অলরেডি ভেনেজুয়েলার সাথে একটি ম্যাচও খেলে ফেলে।কিন্তু সমস্যাটা হয় ব্রাজিলে।ব্রাজিলিয়ান হেলথ অথোরিটির রুলসে কিছু রেড লাইন কান্ট্রি আছে যেখান থেকে গেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়।তবে কিছুদিন আগে যখন ব্রাজিলে কোপা আমেরিকা আয়োজন করা হয় তখন কনমেবল, ব্রাজিল এবং অন্যান্য কান্ট্রিগুলার সাথে একটা এগ্রিমেন্ট হয় যে প্লেয়ারদের ক্ষেত্রে এই রুলস স্কিপ করা হবে। এবং কোপাতে হয়েছেও সেটাই।কনমেবলের সাথে এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী ব্রাজিলিয়ান হেলথ মিনিস্ট্রির এই রেড লাইট কান্ট্রির রুলস প্লেয়ারদের জন্য স্কিপ করা হয়।সাম্প্রতিক আরেকটা গঠনা ঘটে ইংল্যান্ড থেকে উইলিয়ানের ব্রাজিলিয়ান ক্লাব করিন্থিয়াসে জয়েন করা নিয়ে।উইলিয়ান করিন্তিয়াসে জয়েন করার পর ইংল্যান্ড থেকে ব্রাজিলে আসে এবং ওর ক্ষেত্রেও এই রুলসটা স্কিপ করে ব্রাজিলিয়ান হেলথ মিনিস্ট্রি।
কিন্তু গতকালের ঘটনায় ওদের ভুমিকা ছিলো ভিন্নরকম এবং কনমেবলের সাথে করা এগ্রিমেন্ট বিরোধী।ওদের অভিযোগ আর্জেন্টিনার ওই ৪ জন প্লেয়ার নাকি এয়ারপোর্টের ফর্মে নিজেদের তথ্য গোপন করেছেন।যদিও আর্জেন্টাইন ফেডারেশন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।এখন প্রশ্ন হলো এই ৪ প্লেয়ার যদি তথ্য গোপন করেও থাকে তাহলে সেটা ভিন্ন সাইড,সেটা ন্যাশনাল রুলসের সাইডে চলে যায়।এখন এখানে প্রশ্ন হইছে তথ্য যদি গোপন করেই থাকে তাহলে ব্রাজিলিয়ান হেলথ অথোরিটির হুশ ৩ দিন পর হতে হলো? তাও ম্যাচের ২ ঘন্টা আগে? ওরা তো এদের এগেইনেস্টে ব্যাবস্থাটা এর আগেও নিতো পারতো।ম্যাচের একাদশ ঘোষনা করবে বা ম্যাচ শুরু করবে এমন সময়ে কেন? এটা অনেক বড় ইস্যু এবং প্রশ্নবিদ্ধ।
যাই হোক এই ব্যাপারটায় অনেকটাই পলিটিক্যাল ইস্যু আছে,যেটা গাজ্জেটা দেল্লো স্পোর্টস ম্যানশনও করে।আমরা ওইদিকে না যাই।
গতকাল কনমেবল টুইট করে জানিয়েছে এই ম্যাচটির পুরো দায়িত্ব ফিফার৷ ঐই ম্যাচে ফিফার এজেন্টও উপস্থিত ছিল৷ গতকালের সমস্যা নিয়ে ফিফার ডিসিপ্লিনারী কমিটির কাছে ম্যাচ অফিসিয়াল এবং এজেন্ট রিপোর্ট দিবে৷ আর সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ফিফার ডিসিপ্লিনারী কমিটিই সিদ্ধান্ত নিবে এই ম্যাচের ভাগ্যে কি আছে৷ তবে সবকিছু দেখলে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে আর্জেন্টিনা৷ কারণ ফিফা এবং কনমেবল ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আগেই সব তথ্য দিয়েছে। এমনকি কনমেবল ল্যাটিন আমেরিকার সব দেশের সাথে একটা স্বাস্থ্য চুক্তি করেছে৷ সেই চুক্তিটি হল কোন রেড লিস্টেট দেশ থেকে কোন ফুটবলার ল্যাটিন আমেরিকার কোন দেশে গেলে ৭২ ঘন্টা আইসোলেশনে থাকবে এবং ম্যাচের আগে তাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে৷ সেই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে সেই খেলোয়াড়কে খেলতে বাঁধা দেয়া যাবে না৷ আর এসব কাজই আর্জেন্টিনা দল সম্পন্ন করেছে৷ আর ব্রাজিলের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে দাবী করছে সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য?? কারণ যাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে তারা গ্লোবাল স্টার। প্রতি সপ্তাহেই পুরো দুনিয়ার মানুষ তাদের টিভিতে খেলা দেখছে এবং কে কোন দেশে খেলছে সেটা আমজনতাও বলতে পারবে৷ আর এসব বিষয় নিয়ে লো সেলসোরা ভুল তথ্য দিবে???এমনকি কনমেবল ব্রাজিল সরকারকে বলছিল ম্যাচের ৪৫ মিনিট পর্যন্ত যেন রোমেরো,লো সেলসো,ইমিকে খেলতে দেয়া হয়৷ তারপর তাদের সাব করে নিবে আর্জেন্টিনা৷ কিন্তু তাতেও রাজি হয় নি ব্রাজিলের সরকার।
আসলে ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের কোন সমস্যা ছিল না৷ সমস্যা ছিল ব্রাজিল সরকারের। ম্যাচের আগে ৩ দিন ইমিরা ব্রাজিলে ছিল সে সময় তাদের সমস্যা হয় নি কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই সমস্যা??? আসলে ঝামেলা অন্য জায়গায়। তবে সবকিছুই ফিফার হাতে এখন৷ ফিফার সিদ্ধান্ত আসতে হয়ত কিছুদিন সময় লাগবে।
আর একটা কাল কালো টি শার্ট পড়া যে লোক ছিল তিনি ব্রাজিলের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ না৷ উনি সিকিউরিটিদের একজন। চিন্তা করুন কতটা নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল ব্রাজিল সরকার।
এই ঘটনা নিয়ে অলরেডি কনমেবল নিজেদের স্টেটমেন্ট দিয়ে দিছে,ওদের স্টেটমেন্ট এ ছিলো রেফারি ম্যাচ সাসপেন্ড করেছে।অর্থাৎ এই সাইড থেকে আর্জেন্টিনা সেইফ।এখন আমি আরেকটা বিষয় ক্লিয়ার করে দিই সেটা হলো অনেকেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এখানে কি ভুমিকা ছিলো সেটা নিয়ে জানতে চাচ্ছেন।ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশন ওই ৪ জন প্লেয়ারের খেলা নিয়ে সম্মতি দিছিলো।ইভেন ম্যাচশেষে ওদের স্টেটমেন্ট ব্রাজিলিয়ান হেলথ অথোরিটির এগেইনেস্ট এবং অনেকটাই আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের সাথে মিল রেখেই করেছিলো।ইভেন ওই কাহিনীর সময়েও ব্রাজিলের কোচ এবং প্লেয়াররা ওদের হেলথ অথোরিটির কাছে অনুরোধ করেছিলো যেন ম্যাচ খেলতে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এদিক থেকে ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশন ঠিক আছে।
এবার আসি এই ম্যাচ সাসপেন্ড পরবর্তী কি সিদ্ধান্ত আসতে পারেঃ
১) ম্যাচ পূনরায় খেলানো যেটার সম্ভাবনা খুবই কম।কারন শিডিউল জটিলতার একটা ব্যাপার আছে।
২) রুলস অনুযায়ী আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা এবং ব্রাজিলকে কিছু শাস্তি দেওয়া।কারন নিয়ম অনুযায়ী হোম সাইডের জন্য যদি কোন ম্যাচ সাসপেন্ড হয় তাহলে প্রতিপক্ষকে জয়ী ঘোষণা করা হবে এবং হোম টিমকে কিছু শাস্তি দেওয়া হবে।অর্থাৎ ব্রাজিলিয়ান হেলথ অথোরিটির কোন রাইটস ছিলোনা ম্যাচ চলাকালীন এভাবে এসে বাধা দেওয়া রুলস অনুযায়ী যেটার সমাধান তাদের করা উচিত ছিলো ম্যাচের আগে কিংবা পরে।
ওয়েল,ফিফা এখন পরিস্থিতি স্টাডি করছে।কনমেবল ওদের রিপোর্ট পাঠাই দিছে।নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘন্টার মধ্যেই ফিফা এই ম্যাচ নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা।আমরাও এখন ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করি!!

About admin

Check Also

ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ম্যাচ মারামারি! পূর্ন পয়েন্ট পাবে আর্জেন্টিনা

নাটকীয় এক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষায় এমনিতে খুব একটা সফল নয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.