মিলানের কাছে বিশাল ধাক্কা! ইউসিএল খেলতে পারবেন তো রোনালদো?

এমন দিন আসবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কস্মিনকালেও ভেবেছিলেন কি?

রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালিতে গিয়েছিলেন জুভেন্টাসকে ইউরোপসেরা করার আশা নিয়ে, তুরিনের বুড়িদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার বাসনা নিয়ে। টানা নয় বছর লিগ জেতা জুভেন্টাস এ বছর ইউরোপসেরা হওয়া তো দূর, লিগ শিরোপাই হাতছাড়া করেছে। জুভেন্টাসের সাবেক কোচ আন্তোনিও কন্তের নেতৃত্বে ১১ বছর পর লিগচূড়ায় উঠেছে ইন্টার মিলান। ওদিকে জুভেন্টাসের অবস্থা এতই খারাপ, দ্বিতীয়-তৃতীয় হওয়াও দূর, এই মৌসুমে চিন্তা করতে হচ্ছে অন্তত চতুর্থ স্থানে থেকে পরের মৌসুমে কীভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা যায়, সেটা নিয়ে। সে পথে আবারও বড় হোঁচট খেয়েছেন রোনালদোরা।

এসি মিলানের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে জুভেন্টাস। এসি মিলানের পক্ষে গোল করেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজ, ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার আনতে রেবিচ ও ইংলিশ সেন্টারব্যাক ফিকায়ো তোমোরি।

প্রথম থেকেই মিলান বেশ দাপটের সঙ্গে খেলা শুরু করে। মনেই হয়নি, ম্যাচটা যে জুভেন্টাসের মাঠে হচ্ছে। গোটা দল ভালো খেললেও দলের গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুমা তেমন ফর্মে ছিলেন না। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাইট মিডফিল্ড অঞ্চলে একটা ফ্রি-কিক পায় এসি মিলান, সেখান থেকে উড়ে আসা ফ্রি-কিকটা সামলাতে গিয়ে ভজকট পাকিয়ে ফেলেন জুভেন্টাসের গোলরক্ষক শেজনি। বল চলে যায় বক্সের বাঁ প্রান্তে থাকা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজের কাছে, সেখানে থেকে ডান পায়ের বাঁকা শটে শেজনিকে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে খেলতে আসা এই তরুণ।

৫৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় এসি মিলান। কিন্তু আইভোরিয়ান মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্ক কেসির নেওয়া সেই পেনাল্টি আটকে দিয়ে ভুলের একটু হলেও প্রায়শ্চিত্ত করেন শেজনি। গোটা ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা ইব্রাহিমোভিচের জায়গায় একটু পরেই নামানো হয় ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার আনতে রেবিচকে। ৭৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আলজেরিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল বেনেসারের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্ট্রাইকার। নড়ার সময়টুকুও পাননি শেজনি। গত মৌসুমেও শেষদিকে মিলানের হয়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ গোল করাটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিলেন রেবিচ, সেই অভ্যাস এখনও আছে, বোঝা গেল।

গোলের পর তোমোরির উল্লাস।
গোলের পর তোমোরির উল্লাস।
এর ঠিক চার মিনিট পরেই রোনালদোদের ম্যাচে ফিরে আসার আশা ভরসা সম্পূর্ণ মাটিচাপা দিয়ে দেন ইংলিশ সেন্টারব্যাক ফিকায়ো তোমোরি। মাঝমাঠ থেকে তুরস্কের মিডফিল্ডার হাকান চালানোলুর ফ্রি-কিকে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান ৩-০ করে দেন তিনি।

এই হারের ফলে জুভেন্টাসের কোচ হিসেবে আন্দ্রেয়া পিরলোর চাকরি আরেকটু অনিশ্চিত হয়ে গেল।

ম্যাচ জিতে এক লাফে পঞ্চম স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে এসি মিলান। বাকি তিন ম্যাচে এই ফর্ম থাকলে হয়তো আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগও খেলবে তারা। আর ওদিকে রোনালদোদের আশা করতে হবে যেন আতালান্তা, মিলান কিংবা নাপোলি পয়েন্ট হারায় সামনের ম্যাচগুলোতে।

About admin

Check Also

লা লীগায় চলছে নাটক। সেভিয়ার সাথে ড্র রিয়ালের!!

জিতলেই আতলেতিকো আর বার্সেলোনাকে টপকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠা যাবে। জিতলেই টানা দুবছর লিগ জেতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *