উদ্বোবধনের আগেই ২৫ কোটি টাকার সড়কের ফাটল!

উদ্বোধনের আগেই বহুল প্রত্যাশিত কয়েকলাখ মানুষের যোগাযোগের প্রধান সড়ক জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে এমন অভিয়োগ পাওয়া গেছে। রোববার থেকে ওই সড়কের ভাঙনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে ক্ষোভের ঝড় ঊঠে।
এক মিনিট চার সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের জগন্নাথপুর অংশের ভবেরবাজার সেতু এলাকায় পাকাসড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ব্লক থেকে পাকা সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উদ্বোধনের আগেই এক মাস যেতে না যেতে জগন্নাথপুরবাসীর বহুদিনের কাঙ্খিত সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ লুটপাট মেনে নেয়া যায় না।

কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুনীর্তি ও তদারকির দায়িত্বে থাকা আমির হোসেনসহ দুদক. দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি জানাচ্ছি।

সোমবার সড়কের কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা জগন্নাথপুর উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়কের পাশে একটি দেয়াল থাকায় সেখানে বৃষ্টির পানি জমে সড়কের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জগন্নাথপুর-সিলেট (জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর) সড়কে বেহাল দশা দেখায়। সংস্কারের অভাবে প্রায় অচল হয়ে পড়ে সড়কটি। এলাকাবাসী ও শ্রমিকদের ধারাবাহিক মানববন্ধবসহ গণপরিবহন কর্মসূচি পালন করা হয়। এই সড়ক দিয়ে জগন্নাথপুরের প্রায় চার লাখ মানুষ বিভাগীয় সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে আসছিলেন।

২০১৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে মাদারীপুরেরর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি) অংশ নেয়। এসময় দ্রুত সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করতে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত দরে ২৫ কোটি টাকায় তাদেরকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সড়কে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ৩১ মার্চ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শেষ হয় ঈদের এক সপ্তাহ আগে। ১৯ মে সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশের শেষ হওয়া কাজ উদ্বোধন করার কথা ছিল পরিকল্পনা মন্ত্রীর।লকডাউন বাড়ায় এ কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।

অপর দিকে বিশ্বনাথ অংশের ১৩.৯ কিলোমিটার অংশে সাড়ে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দে কাজ পায় শাওন এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু করে ৩১ মে কাজ শেষ করার কথা।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সহ সভাপতি রব্বানী মিয়া বলেন, সড়কে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে এ বিষয়ে একাধিকবার এলজিইডিতে অভিযোগ করলে কেউ শুনেনি। সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসলে সাতটি স্পটে ভাঙনের চিত্র উল্লেখ করে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করি। লকডাউনের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচলের আগেই এমন ভাঙন চিত্রে আমরা হতাশ।

জগন্নাথপুর উপজেলা অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার আবু বক্কর বলেন, সড়কের সামান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তা সংস্কার করছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত অংশ সোমবার সরেজমিনে দেখে ঠিকাদারকে ভাঙন অংশ সংস্কার করতে বলা হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

About admin

Check Also

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: সংক্রমণ ও প্রতিকার

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: সংক্রমণ ও প্রতিকার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ভারত যখন বিপর্যস্ত ঠিক তখনই ব্ল্যাক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *